বাবা-মায়ের মানসিক চাপের সাথে সন্তানদের মানসিক স্বাস্থ্যের গভীর সম্পর্ক রয়েছে বলে যুক্তরাষ্ট্রের একটি নতুন জরিপে উঠে এসেছে। ‘দ্য কিডস মেন্টাল হেলথ ফাউন্ডেশন’ পরিচালিত এই জরিপ অনুযায়ী, সন্তানদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে বাবা-মায়ের দুশ্চিন্তা দিন দিন বাড়ছে। জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় ৯৭ শতাংশ অভিভাবক জানিয়েছেন যে, বিগত এক মাসে তারা সন্তান লালন-পালন সংক্রান্ত মানসিক চাপের মুখোমুখি হয়েছেন। এর মধ্যে প্রতি তিনজনের মধ্যে প্রায় একজন (৩০ শতাংশ) জানিয়েছেন যে তারা “প্রায়ই” এই ধরনের চাপের সম্মুখীন হন।
জরিপটির তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বাবা-মায়ের এই মানসিক চাপের প্রধান দুটি উৎসের একটি হলো সন্তানদের আচরণগত সমস্যা (৩৫ শতাংশ) এবং অন্যটি হলো সন্তানদের আবেগীয় ও মানসিক স্বাস্থ্য (২৬ শতাংশ)। দুর্ভাগ্যবশত, প্রায় ৪৬ শতাংশ অভিভাবক স্বীকার করেছেন যে তাদের নিজেদের মানসিক চাপ সন্তানদেরকে আরও বেশি উদ্বিগ্ন বা চিন্তিত করে তোলে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান প্রজন্মের অভিভাবকরাই প্রথম তাদের সন্তানদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনভাবে কাজ করার চেষ্টা করছেন, যার ফলে তাদের মধ্যে এক ধরনের দ্বিধাদ্বন্দ্ব ও উদ্বেগের সৃষ্টি হচ্ছে।
পারিবারিক পরিবেশ ও মানসিক সুস্থতা
‘দ্য কিডস মেন্টাল হেলথ ফাউন্ডেশন’-এর নির্বাহী ক্লিনিকাল ডিরেক্টর আরিয়ানা হোয়েট এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছেন, বর্তমান যুগের অভিভাবকরা সন্তানদের মানসিক স্বাস্থ্যের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন হলেও, তাদের সামনে কোনো পূর্ববর্তী আদর্শ মডেল নেই। ফলে তারা প্রায়ই ভাবেন যে তারা সন্তান লালন-পালনে কোনো ভুল করছেন কি না। হোয়েট জোর দিয়ে বলেন যে, বাবা-মায়েদের প্রথমে নিজেদের মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়া উচিত, কারণ তাদের মানসিক চাপ পুরো ঘরের পরিবেশকে প্রভাবিত করে। তিনি অভিভাবকদের চাপের কারণগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনার এবং নিজেদের মধ্যে আনন্দ ও সংযোগের মুহূর্ত খুঁজে নেওয়ার পরামর্শ দেন।
“বর্তমান প্রজন্মের অভিভাবকরাই প্রথম সন্তানদের মানসিক স্বাস্থ্য গঠনে সরাসরি কাজ করছেন। যেহেতু তাদের কাছে কোনো পূর্ববর্তী মডেল নেই, তাই তারা প্রায়ই দ্বিধায় ভোগেন যে তারা সঠিক পদ্ধতিতে এগোচ্ছেন কি না।” – আরিয়ানা হোয়েট
ওহাইওর হিলিয়ার্ডের দুই সন্তানের মা অ্যালিসন টমলিন তার অভিজ্ঞতা শেয়ার করে জানান যে, অনেক সময় অভিভাবকরা সমস্যা সমাধানের দিকে এতটাই মনোযোগী হন যে তারা সন্তানদের অনুভূতিগুলোকে উপেক্ষা করে ফেলেন। এর ফলে সন্তানরা নিজেদের গুটিয়ে নেয়। টমলিন এখন ফাউন্ডেশনের পরামর্শগুলো মেনে চলছেন এবং সন্তানদের সাথে কঠিন ও সংবেদনশীল বিষয়গুলো নিয়ে উন্মুক্ত আলোচনা করছেন, যা তাদের পারিবারিক সম্পর্ককে আরও মজবুত করছে।
হোয়েটের মতে, সন্তানদের সাথে প্রতিদিনের খোলামেলা কথোপকথন, নিয়মিত রুটিন বজায় রাখা এবং তাদের আচরণ নিয়ন্ত্রণ করা সন্তানদের সুদৃঢ় মানসিক স্বাস্থ্য গঠনে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বাবা-মা হিসেবে কোনো ভুল হলে তা নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তিত হওয়ার কিছু নেই, বরং ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে সন্তানদের কাছে ক্ষমা চাওয়া ও দায়বদ্ধতা প্রকাশ করা সম্পর্কের গভীরতা আরও বাড়িয়ে তোলে। উল্লেখ্য, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ২ মার্চ পর্যন্ত অনলাইনের মাধ্যমে ১৮ বছরের কম বয়সী সন্তানদের ১,০৮১ জন অভিভাবকের ওপর এই জরিপটি পরিচালনা করা হয়। সূত্র: ইউএস নিউজ





