প্রযুক্তির এই যুগে আমাদের চারপাশ ঘিরে আছে নানা ধরনের ডিজিটাল ডিভাইস। স্মার্টফোন থেকে শুরু করে টেলিভিশন, সবখানেই এখন ডিজিটাল পর্দার ছড়াছড়ি। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অন্তত ১৮ মাস বয়স হওয়ার আগ পর্যন্ত শিশুদের জন্য এই পর্দা বা মিডিয়া থেকে দূরে থাকাই সবচেয়ে মঙ্গলজনক। আমেরিকান অ্যাসোসিয়েশন অব পেডিয়াট্রিক্সের বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘ গবেষণার পর এমন পরামর্শ দিয়েছেন।
বিশেষজ্ঞ লুবির মতে, শিশুর বয়স ১২ মাস বা এক বছর হওয়ার আগে তার হাতে কোনো ধরনের ডিজিটাল ডিভাইস দেওয়া একদমই উচিত নয়। এরপর ১২ থেকে ২৪ মাস বয়স পর্যন্ত খুব অল্প সময়ের জন্য অত্যন্ত বাছাই করা কিছু শিক্ষামূলক বিষয় তাদের সামনে তুলে ধরা যেতে পারে। তবে এই সময়েও বিষয়টি হতে হবে অত্যন্ত নিয়ন্ত্রিত।
বিশেষজ্ঞ ক্রিস্টাকিস জানিয়েছেন, শিশুদের বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশের একটি নির্দিষ্ট সময় থাকে। খুব ছোটবেলায় তারা টেলিভিশন বা ইন্টারনেটের কোনো বিষয় বোঝার মতো মানসিক বা সামাজিকভাবে দক্ষ হয়ে ওঠে না। তাই সেই সময় তাদের ওপর প্রযুক্তির চাপ দেওয়া একদমই ঠিক নয়। এর ফলে শিশুর স্বাভাবিক চিন্তা করার ক্ষমতা বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এক বছরের কম বয়সী শিশুরা সাধারণত বাবা-মায়ের সঙ্গে মেলামেশা, তাদের স্পর্শ এবং শারীরিক চলাফেরার মাধ্যমে চারপাশের জগত সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করে। তাদের সব তথ্যের উৎস হওয়া উচিত বাস্তব পৃথিবী, কোনো কৃত্রিম ডিজিটাল পর্দা নয়।
অপর এক বিশেষজ্ঞ ফোলি বলেন, এই বয়সের শিশুদের জন্য প্রযুক্তির কোনো প্রয়োজন নেই। তারা স্পর্শ এবং খেলার মাধ্যমেই শিখতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। তাই শিশুর উজ্জ্বল ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে অভিভাবকদের উচিত তাদের শৈশবকে ডিজিটাল পর্দার আড়াল থেকে মুক্ত রাখা। সূত্র : অনলাইন।





