অতিরিক্ত প্রযুক্তি বা স্মার্টফোন ব্যবহারের কারণে শিশুদের স্বাভাবিক বিকাশ মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বিশেষ করে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে এটি দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। অস্ট্রেলিয়ার ওলংগং বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের এক সাম্প্রতিক গবেষণায় এই উদ্বেগের কথা উঠে এসেছে।
গবেষণায় এই সমস্যাকে ‘টেকনোফারেন্স’ বা প্রযুক্তিগত হস্তক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। যখন বাবা-মা তাদের সন্তানদের সময় দেওয়ার পরিবর্তে স্মার্টফোন বা ডিজিটাল ডিভাইসে মগ্ন থাকেন, তখন শিশুরা নিজেদের অবহেলিত মনে করে। এটি শিশুদের কথা বলা শেখা এবং সামাজিক দক্ষতা অর্জনে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
গবেষকরা বলছেন, বাবা-মায়ের প্রযুক্তি আসক্তি শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে প্রভাব ফেলে। এর ফলে শিশুদের খেলাধুলা কমে যায়, ঘুমের সমস্যা হয় এবং স্ক্রিন টাইম বা পর্দার প্রতি আসক্তি বেড়ে যায়। এমনকি এটি শিশুর শেখার ক্ষমতাকেও ধীর করে দেয়।
গবেষকরা প্রায় ১৪ হাজার ৯০০ পরিবারের ওপর পরিচালিত ২১টি পূর্ববর্তী গবেষণার তথ্য বিশ্লেষণ করেছেন। এতে দেখা গেছে, যেসব বাবা-মা সন্তানদের সামনে বেশি প্রযুক্তি ব্যবহার করেন, তাদের শিশুদের মধ্যে আচরণগত সমস্যা এবং কথা বলার ক্ষেত্রে জড়তা বেশি দেখা দেয়।
গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, শিশুদের প্রথম কয়েক বছরের বিকাশের জন্য সবচেয়ে জরুরি হলো বাবা-মায়ের সাথে সরাসরি কথা বলা এবং খেলাধুলা করা। কিন্তু বর্তমানে ডিভাইস ব্যবহারের কারণে এই যোগাযোগ কমে যাচ্ছে। এর ফলে শিশুরা খিটখিটে মেজাজের হতে পারে এবং অন্যদের সাথে মেলামেশায় সমস্যা অনুভব করে। সূত্র : অনলাইন।





